পরাজয়, পরাজিত এবং বাংলাদেশ

Standard

এ দেশটা এখন জাহান্নাম প্রায়! জানি না- জাহান্নাম এর চেয়ে কতো বেশি ভয়ানক বা খারাপ! আমরা খারাপের মধ্যেই আছি! এবং দীর্ঘদিন! এর পরিবর্তন হয়তো আসবে, কিন্তু- কবে আসবে জানি না…!

’৭১-এ স্বাধীনতা এলো বা হলো। তারপর কী হলো… তা আমরা কম-বেশি সবাই জানি-বুঝি, দেখি… কিছু বলতে পারি না, কিছু করতে পারি না! কেন? কারণ- আমরা এখনও স্বাধীন হতে পারি নি। ভিন্নধরনের এক পরাধীনতার শৃঙ্খল আজ আমাদের পা’য়। গুটি কয়েক দুর্নীতিগ্রস্থ্ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর হাতে জিম্মি এ দেশ, এদেশের বাইশ কোটি লোকসাধারণ। অামরা মুক্তির পথ খুঁজে মরি প্রায়সই! বুঝতে পারি না- কী আমাদের করণীয়, কী করলে কী হবে উপায়…!

আজ দেশে শিক্ষা নেই, স্বস্থি নেই; শান্তি নেই! যার ক্ষমতা আছে… সে যা ইচ্ছা তাই করছে! নেই বিবেক, জবাবদিহিতা, নৈতিকতা, সুশাসন…! সব ধ্বংস হয়ে গেছে এককথায়! আছে শুধু বেঁচে থাকা, দুইবেলা ভাত, দু’খানা কাপড় এবং সংসার…! মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে যেন সবাই! কারো কোনো জবাব বা প্রতিবাদও নেই মুখে-কথায়, লেখায়! সবাই যেন জানি- ওসব ক’রে কিছু হবে না! অাসলে, সত্যি বা বাস্তবতাও ঠিক তাই! মানুষ আজ খুব অসহায়…!

ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নতুন-পুরাতন সব রাজনৈতিক নেতা বা দল করছে ভোটের রাজনীতি! কে মরলো, কে বাঁচলো, কার কী ক্ষতি হলো… দেশ বা মানুষের… সেসব আজ তাদের কাছে বড়কথা নয়, কোনো কিছু নয়! তাদের শুধু ক্ষমতা চাই, ক্ষমতায় টিকে থাকা চাই! তাই, যে যা পারছে তাই করছে। কেউ কিছু বলার নেই! বললেই ক্রস-ফায়ার, কিংবা- তুমি জঙ্গি! তুমি-আমি যাবো কোথায়?

কেউ কেউ বলে- একটা সত্যিকার নেতা দরকার! কিংবা- একটা ব্লাড-সেইড বা রক্তপাত। অর্থাৎ, এসব দুর্নীতিগ্রস্থলোকদের মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই! কিন্তু, তা কবে? কিভাবে? তা তো খুব একটা ভালোও নয়! কে চাই আমরা ধ্বংস, মৃত্যু, যুদ্ধ…? কেউ না! তবু, উপায়? তাই এখন জানা দরকার! খুব প্রয়োজন!

সামগ্রিকভাবে আমি দেখি- দেশ আজ বিভেদ হয়ে গেছে নানা দলে, ধর্মে, ভাবনায়, শিক্ষায়…! কেউ আর এক নয়! সবাই সবার মতো খুব একা। এই একাকীত্বই এক বিশাল দূর্বলতা আমাদের, যাকে পুঁজি ক’রে লুটেপুটে খাচ্ছে কিছু অমানুষ, দুর্নীতিগ্রস্থলোক যুগের পর যুগ। আমরা কেউ কিছু বুঝছি, কেউ কিছু জানিই না! এই চলছে স্বদেশ!

বড় বড় সব ব্যবসায়ীরাই আজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতি করে। টাকা দিয়ে নমিনেশন নেয়। তারপর, ট্যাক্স ফাঁকি দেয়, নিজের লাভের আইন বানায়। কেউ তাদের দেখে না, বোঝে না সম্মুখে। এসব সব হয় গোপনে। ফলাফলের কুফল পায় জনগণ। মুখে মুখে শুধু গণতন্ত্র, আসলে গণতন্ত্র ব’লে এখানে কিছু নেই। সব পারিবারিক রাজতন্ত্রেরই এক গণতান্ত্রিকরূপ। এ কথা বোঝে সবাই! তারপরও এদেরকেই বছর বছর ভোট দেয়। না-দিয়ে উপায়ও নেই তাদের! আমাদের! কারণ, বছর বছর এরাই তো নমিনেশন পায় এবং ভোটে দাঁড়ায়! আমার শুধু বিচার ক’রে রায় দেই- এবার কে করবে লুটপাট…!

ব্যাংকের টাকা এখন লুট হয়ে যায়! দেশের লক্ষকোটি রেমিটেন্স হুন্ডি বা নানা উপায়ে বিদেশে পাঁচার হয়ে যায়! তাদেরই অনুচর, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী করে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা। সবাই জানে-বোঝে কারা এদের অংশিদার! মরলে মরে জনগণ, তাদের ছেলে-মেয়েরা বিদেশ থাকে, ভালো খায়, পড়ালেখা করে, সু-চিকিৎসা পায়! আমরা মরি ভাতের অভাবে, বানের জলে, কিংবা- মাদকাসক্ত হয়ে দিন দিন, প্রতিদিন…। আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রকৃত শিক্ষা-যোগ্যতার অভাবে বেকার হয়ে ঘুরে বেড়ায়, বাধ্য হয়ে জঙ্গি হয়, কিংবা- আত্নহত্যা ক’রে জীবন হারায়! হায় বাস্তবতা..! হায় পরিবেশ…! এ তো সত্যিই এক জাহান্নাম! আমরা কিভাবে ভালোবাসবো এই দেশ?